1. bplive24@gmail.com : admin2020 :

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৫ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থীদের আত্মসাৎকৃত উপবৃত্তির টাকা ফেরৎ দিয়েছে দপ্তরি লিখিত মুচলেকা রেখে মুক্তি 

শিক্ষার্থীদের আত্মসাৎকৃত উপবৃত্তির টাকা ফেরৎ দিয়েছে দপ্তরি লিখিত মুচলেকা রেখে মুক্তি 

 

স্টাফ রিপোর্টার- আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ শিশু শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোহিণী কান্ত ভট্টাচার্য, একই গ্রামের ভূক্তভুগী অভিবাবকগণ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্তিতিতে একটি সালিশ বিচার অনুষ্টিত হয়। উক্ত সালিশে বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও রনিয়া গ্রামের বাসিন্দা রথীন্দ্র দাসের পুত্র টুটুল দাসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ভূক্তভুগী অভিবাবক মফিজ মিয়ার ৩ পুত্র সহ বিদ্যালয়ের আরও ১০ থেকে ১৫ জনের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি  দপ্তরি টুটুল দাস অকপটে স্বীকার করে। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার মফিজ মিয়ার ৩ পুত্রের ১৮০০ টাকা সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীর আত্মসাৎকৃত উপবৃত্তির টাকা ফেরৎ প্রদান করে ওই দপ্তরি। এ ছাড়া দপ্তরি টুটুল দাসের নিকট থেকে ভবিষ্যতে আর এ ধরণের কাজ করবে না বলে লিখিতভাবে মুচলেকা রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
সারাদেশ ব্যাপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ” নগদ ” এর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের নিয়ম ঘোষনা করেছে সরকার এরই ধারাবাহিকতায়,
আজমিরীগঞ্জ ১ নং সদর ইউনিয়নের রনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মফিজ মিয়ার পুত্র ও রনিয়া সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ সালমান মিয়া, ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ মোরছালিন মিয়া ও ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ মফিজ মিয়ার উপবৃত্তির টাকা  আসে নির্দিষ্ট করে দেয়া তাদের মোবাইলে। শিক্ষার্থীদের অভিবাবক মফিজ মিয়ার স্ত্রী তাদের নগদ একাউন্টে উপবৃত্তির কত টাকা এসেছে তা দেখাতে যায় বিদ্যালয়ের দপ্তরি টুটুল দাসের নিকট। বর্তমানে পার্সোনাল নম্বর থেকে পার্সোনাল নম্বরে সেন্ডমানি না হওয়ায়, দপ্তরি টুটুল দাস শিক্ষার্থীদের অভিবাবকের মোবাইলে আসা ৪৮০০ টাকা থেকে ( (পূর্ব থেকে জানা) গোপন পিন টিপে গুনগুন আই,টি তে ১৮০০ টাকা গোপনে ট্রান্সফার করে নেয়। পর মফিজ মিয়ার স্ত্রীকে দপ্তরি জানায় যে, তাদের মোবাইলে উপবৃত্তির ৩ হাজার টাকা এসেছে। পর মফিজের স্ত্রী আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাধীন চরবাজারে এসে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের মনোজ টেলিকম থেকে ৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে। ৩ হাজার টাকার বিষয়টি নিয়ে গ্রামের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিবাবকদের মধ্যে আলোচনা হলে, তারা জানায় ৩ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আরও বেশী আসার কথা। বিষয়টি যাচাই বাছাই করতে শিক্ষার্থীর অভিবাবক আজমিরীগঞ্জ টানবাজারের জহির এন্টারপ্রাইজ এ আসে। জহির এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন যাচাই করে অভিবাবককে জানায় যে, নগদ হিসেবে উপবৃত্তির ৪৮০০ টাকা এসেছে। পরবর্তীতে একই দিন ২ টা ৫৯ মিনিটে গুনগুন আই,টি তে ১৮০০ টাকা ও বিকাল ৪ টায় ৩০০০ টাকা পৃথক দু’টি মোবাইল নম্বরে উত্তোলন করা হয়েছে। একই দিন খবর দিলে, জহির এন্টারপ্রাইজ এ এসে উপবৃত্তির ১৮০০ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে দপ্তরি টুটুল দাস। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ রবিবার সকালে দপ্তরি টুটুল দাস আত্মসাৎকৃত ১৮০০ টাকা ফেরৎ দিতে জহির এন্টারপ্রাইজ এ আসে।
কিন্তু অভিবাবক মফিজ মিয়া ওই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ব্যাপারে রনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোহিণী কান্ত ভট্টাচার্য জানায়, আমি অন্য জায়গায় আছি। এসে এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেব। সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহফুজ মিয়া জানায়, লিখিত অভিযোগ আসলে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেয়া হবে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2020 bijoyerprotiddhoni
Developed BY ThemesBazar.Com