1. bplive24@gmail.com : admin2020 :

সোমবার, ২৬ Jul ২০২১, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি নিতে জালিয়াতির অভিযোগ

আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি নিতে জালিয়াতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভূয়া প্রেসের পরিচয়ে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পত্রিকাটির সম্পাদক সুশান্ত দাশগুপ্ত ও ছাপাখানার মালিক শোয়েব চৌধুরীকে তলব করেছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকরী কমিশনার আমেনা খাতুন স্বাক্ষরিত পৃথক দুইটি ব্যাখ্যা তলবে তাদের নিকট অভিযোগ সমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ অবিলম্বে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে।
এর আগে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম, হবিগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহবায়ক ইশতিয়াক রাজ চৌধুরী, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গৌতম কুমার রায় ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সুজাত।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৯ মার্চ হবিগঞ্জ শহরের মাস্টার কোয়ার্টার এলাকার মৃত ছরকুম চৌধুরীর ছেলে শোয়েব চৌধুরী দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকাটি তার মালিকানাধীন সোনালী প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত হবে এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী “ফরম বি” পূরণ করে সমুদয় বিধানাবলী মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন মর্মে জেলা প্রশাসকের কাছে ঘোষণপত্রে স্বাক্ষর করেন। অথচ পুরান মুন্সেফী আবাসিক এলাকা কিংবা হবিগঞ্জ শহরের কোথাও শোয়েব চৌধুরীর মালিকানায় সোনালী প্রিন্টিং প্রেস নামের কোন প্রেসের অস্তিত্ব নেই। হবিগঞ্জ পৌরসভার কোন প্রকার ট্রেড লইসেন্স সংগ্রহ না করে বিগত ২০২০ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে অধ্যাবদি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকাটি সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, পুরান মুন্সেফী আবাসিক এলাকা, হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে বলে পত্রিকার প্রিন্টিং লাইনে উল্লেখ আছে। যে প্রেসের কোন অস্তিত্বই নেই সেই প্রেস থেকে কিভাবে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয় সে প্রশ্ন মেয়র আতাউর রহমান সেলিমসহ হবিগঞ্জবাসীর।
মেয়র সেলিম অভিযোগে উল্লেখ করেন, দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাসগুপ্ত এবং ছাপাখানার মালিক শোয়েব চৌধুরী ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের ৩ এবং ৭ ধারার বিধান লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসকের কাছে অসত্য তথ্য দিয়ে পত্রিকাটি প্রকাশের অনুমতি নিয়েছেন। যা ফৌজধারী আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের সাথে জালিয়াতির পর্যায়ে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে মেয়র আতাউর রহমান সেলিম, অভিযুক্ত সুশান্ত দাস গুপ্ত ও প্রেস মালিক শোয়েব চৌধুরীর কার্যক্রম সম্পর্কে সমাজে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং মানুষের সম্মানহানী ঘটছে সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যাবলী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ পত্রিকার মাধ্যমে প্রায় এক বছর ধরে হবিগঞ্জের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, আনসার-ভিডিপি, শিক্ষক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, কুরুচীপূর্ণ, কাল্পনিক ও মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। যার কারণে হবিগঞ্জে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পাশাপাশি প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়াও হবিগঞ্জ জেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য সম্প্রদাায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে এ পত্রিকায় উস্কানীমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়Ñ এই পত্রিকার আড়ালে সম্পাদক ও প্রকাশক, ছাপাখানার মালিক এবং তার সহকর্মী বিভিন্ন এলাকার বখাটে তরুণদের সংবাদদাতা সাজিয়ে মাদক ব্যবসা, নারী কেলেঙ্কারী, চাকুরী দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের বিরুদ্ধে অসত্য, কাল্পনিক সংবাদ প্রচারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। এমনকি পত্রিকাটির সম্পাদক সুশান্ত দাস গুপ্ত ও তার সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে জনসম্মুখে আমাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। এসব ঘটনায় পৌরবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আবেদনে মেয়র আতাউর রহমান সেলিম তাঁর নিজেরসহ হবিগঞ্জ পৌরসভার সর্বস্তরের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক সুশান্ত দাস গুপ্ত এবং অস্তিত্বহীন ছাপাখানার মালিক শোয়েব চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনের ৩ এবং ৭ ধারা বিধান লঙ্ঘনের দায়ে একই আইনে ১০, ২৯, ৩১ ও ৩২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানান।
মেয়র আতাউর রহমান সেলিম বলেন, হবিগঞ্জ শহর থেকে যেসব পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলো সুনির্দিষ্ট প্রেস থেকে ছাপা হওয়ায় ওইসব পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এজন্য তারা প্রতিটি সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে থাকেন। কিন্তু সুশান্ত দাস গুপ্তের সুনির্দিষ্ট প্রেস না থাকায় তিনি সাংবাদিকতার সকল নীতিমালা ভঙ্গ করে অসত্য তথ্য এবং মিথ্যাচারের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তার মধ্যে কোন দায়বদ্ধতা কাজ করছে না। এ বিষয়ে শোয়েব চৌধুরী জানান, নোটিশ পেয়েছি। বিধি অনুযায়ী এর জবাব দেয়া হবে।

শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2020 bijoyerprotiddhoni
Developed BY ThemesBazar.Com