1. bplive24@gmail.com : admin2020 :

বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

নব-নির্বাচিত মেয়র সেলিমকে যেমন দেখতে চান সাধারণ মানুষ

নব-নির্বাচিত মেয়র সেলিমকে যেমন দেখতে চান সাধারণ মানুষ

  • নির্বাচন এলেই সাধারণ মানুষ প্রতিবারই প্রকৃত দেশপ্রেমিক প্রার্থীর সন্ধান করেন। তবে বিভিন্ন কারনে তা আর হয়ে উঠেনা। যে কারনে তৃণমুল জনগনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য হয়েই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে হয়।

আর এ কারণে যোগ্য ও দক্ষ জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে সরকার ও বিদেশী সংস্থাগুলো প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে যে বরাদ্দ দেয় তা যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। এতে বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হবার ফলে পিছিয়ে যেতে হয়। জনপ্রতিনিধিদের নিকট বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জনগনের প্রত্যাশা অনেক বেশী।

২৮ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় ৫ম দফায় পৌর  নির্বাচন। এদিন হবিগঞ্জ পৌরসভাতেও ভোট হয়।হবিগঞ্জ শহরবাসী পান তাদের ৩২ তম মেয়র। বিশাল ব্যবধানেই জয় পান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা যুবলীগ সভাপতি ত্যাগী নেতা আতাউর রহমান সেলিম। ২০১৫ সালে হেরে গেলেও অনেক পরিশ্রমের ফলে এবার জনগণ তাকেই তাদের যোগ্য নেতা মেনে নিয়ে নির্বাচিত করেছে। কাজেই তার কাছে জনগণের প্রত্যাশাটা একটু বেশি। ইতোপূর্বে এ পৌরসভায় একজন মেয়রই পূরণ করতে পেরেছিলেন। যদিও তার দল ক্ষমতায় ছিল না। কিন্তু আতাউর রহমান সেলিমের দল আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। কাজেই অন্যদের চেয়ে তিনি ইচ্ছে করলেই সহজেই সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া এটি তার জন্য একটা পরীক্ষাও বটে।

যে আশা আর বিশ্বাস নিয়ে জনগণ পৌরবাসীর সেবার দায়িত্ব তার কাধে তুলে দিয়েছে আগামী ৫ বছর সেই জনগণের মনের মধ্যে তাকে জায়গা করে নিতে হবে। আর তা করতে হবে উন্নয়ন কাজ আর জনগণকে তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন করে। দিতে হবে নিজের যোগ্যতার পরিচয়, দেখাতে হবে কর্মদক্ষতা, করতে হবে এলাকার উন্নয়ন।

আন্তরিকতার মাধ্যমে সুবিধাবাদীদের দূর রাখতে হবে। যেন কেউ তার নাম বিক্রি করে ফায়দা নিতে না পারে।

দায়িত্ব নেয়ার পর যেদিকে নজর দিতে হবে- 

১৯৮১ সালে গঠিত হয় হবিগঞ্জ পৌরসভা। এ বছর এই পৌরসভার ৪০ বছর পেরিয়েছে। তবে ৪০ বছরেও জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি এখানকার জনপ্রতিনিধিরা। ফলে দুর্ভোগ আর সঙ্কট লেগেই আছে।

৪০ বছরে পৌরসভার চেয়ার বদল হয়েছে অনেকবার কিন্তু বদলায়নি পৌরবাসীর ভাগ্য। বিভিন্ন সমস্যার সাথে লড়াই করে বসবাস করতে হচ্ছে প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার নাগরিকদের। বছর বছর ট্যাক্স বাড়লেও বাড়েনি নূণ্যতম সুযোগ-সুবিধা। অপ্রসস্থ রাস্তা-ঘাট, যানজট, অপরিকল্পিত  ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

যানজট : হবিগঞ্জ পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। এই পৌরসভার সড়কগুলো অপ্রশস্থ হওয়ার কারণে দিনের পর দিন যানজট লেগে থাকে। যে কারণে বর্তমানে যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে হবিগঞ্জ। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামন থেকে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটারের রাস্তা। অথচ এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করছে ৫ হাজারেরও অধিক টমটম ইজিবাইক। সেই সাথে কয়েক হাজার সাধারণ রিক্সাতো আছেই। অপ্রশস্থ রাস্তা হওয়ার কারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ রাস্তায় যানজট লেগে থাকে।

ছোট শহর হবিগঞ্জে ১২শ’ টমটম ইজিবাইকের বেশি চলাচল করা সম্ভব নয়। অথচ ৫ হাজারের অধিক টমটম ইজিবাইক চলছে। অনুমোদিত ১৩শ। যে কারণে যানজটের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকেই দায়ি করছেন তারা।

হবিগঞ্জ পৌরসভার শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা জুয়েল চৌধুরী বলেন, ‘শহরের যানজটের অবস্থা কি বলব। প্রতি বছর ট্যাক্স বেড়ে দ্বিগুণ হয়। বাড়ি বানাতে ট্যাক্স লাগে, গাছ কাটতে লাগে, কিন্তু এত টাকা ট্যাক্স দিয়েও নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। যানজটের কারণে শহরে বের হওয়া যায় না।’ তার উপর আগের মেয়রের নাম বিক্রি করে একটি মহল ৫ টাকার ভাড়া করেছে ১০ টাকা। শায়েস্তানগর থেকে চৌধুরী বাজার যেতে লাগে ১০ টাকা। তিনি বলেন, দিনে ৫ বার শহরে গেলে ১শ টাকা। তা কি করে সম্ভব? এজন্য তিনি টমটমের রেজিষ্ট্রেশন ফি ৮ হাজার থেকে কমানোর দাবি জানিয়ে ভাড়া আগের মত ৫ টাকা করার পরামর্শ দেন।

তারেক নামের নাগরিক বলেন, ‘হবিগঞ্জ ছোট একটা শহর। অথচ এই শহরে প্রতিদিন ৫ হাজার বেশি টমটম চলাচল করে। এই যানজটের কারণে কে দায়ি? অবশ্যই পৌরসভা নিজেই দায়ি। কারণ তারা এতগুলো টমটমের অনুমোদন না দিলে চলাচল করতে পারত না।’

তিনি বলেন, ‘দিনদিন পৌরসভার উন্নয়নের বদলে অবনতি হচ্ছে। মানুষ বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। হচ্ছে সমস্যা। অথচ হবিগঞ্জ পৌরসভার পরিকল্পিত কোন উন্নয়ন হচ্ছে না।

শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2020 bijoyerprotiddhoni
Developed BY ThemesBazar.Com